ঢাকা ০৪:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নন্দীগ্রামে দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাট, প্রাণনাশের হুমকির অভিযো

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট ০৭:১৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 25

 

​বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিজরুল এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি ঐতিহ্যবাহী দোকানঘর অবৈধভাবে ভাঙচুর, ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ অর্থসহ মূল্যবান মালপত্র লুটপাট এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

​গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিনদুপুরে উপজেলার বিজরুল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মিরাজুল ইসলাম (৪৮) বাদী হয়ে নন্দীগ্রাম থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ২০ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিজরুল গ্রামের মৃত আছির উদ্দিনের ছেলে মো. মিরাজুল ইসলাম স্থানীয় বিজরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ভাড়ায় নিয়ে গত প্রায় ৪০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় (৩ পুরুষ ধরে) উক্ত দোকানঘরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানঘর ও জায়গার মালিকানা নিয়ে বিবাদীদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলে আসছিল।

​অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৯ অক্টোবর উক্ত বিরোধের জেরে বিজরুল গ্রামের মো. আনিছ রহমান (৫৫), মো. মামুন (৫০), মো. রফিকুল (৪৮) ও মো. আব্দুল আজিজ (৪৫)-এর নেতৃত্বে আনুমানিক ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র যেমন হাসুয়া, রামদা ও লাঠি নিয়ে হঠাৎ করে ওই দোকানে হামলা চালায়। তারা দোকানঘরে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট শুরু করে।

​এ সময় দোকানমালিক বাধা দিতে গেলে ৩ নম্বর অভিযুক্ত মো. রফিকুল একটি ধারালো বার্মিজ চাকু ভুক্তভোগীর ছেলের গলায় ধরে হত্যার ভয় দেখান এবং নড়াচড়া করলে গলা কেটে ফেলার হুমকি দেন। পরবর্তীতে আসামিরা ব্যবসায়ী মিরাজুল ইসলামকে আটকে রেখে জোরপূর্বক পুরো দোকানঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন এবং ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ ৬০ হাজার টাকাসহ সব মালপত্র লুট করে নিয়ে যান। চলে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে বলেন, পুনরায় ওই স্থানে দোকান চালু করলে পুরো পরিবারসহ তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।

​ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউনুছ আলী (৩০) ও মো. আব্দুস সামাদ (৬০) জানান, হামলাকারীরা অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে এসে হঠাৎ আক্রমণ ও ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা তিন পুরুষ ধরে সুনামের সঙ্গে এখানে ব্যবসা করে আসছি। তারা অন্যায়ভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে দোকানঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং নগদ টাকাসহ সব লুট করে নিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আনিছ রহমান বলেন,বাবা এই জমিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে দান করেছিলেন। আমার বাবার দানকৃত জমিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কোনো অনুমোদন ছাড়াই রাতের আঁধারে ইটের কাজ শুরু করা হয়। এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতেই আমরা কাজ করতে বাধা দিয়েছি।

​এ ব্যাপারে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, এসংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ

Please Share This Post in Your Social Media

নন্দীগ্রামে দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাট, প্রাণনাশের হুমকির অভিযো

আপডেট ০৭:১৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

 

​বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিজরুল এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি ঐতিহ্যবাহী দোকানঘর অবৈধভাবে ভাঙচুর, ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ অর্থসহ মূল্যবান মালপত্র লুটপাট এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

​গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিনদুপুরে উপজেলার বিজরুল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মিরাজুল ইসলাম (৪৮) বাদী হয়ে নন্দীগ্রাম থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ২০ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিজরুল গ্রামের মৃত আছির উদ্দিনের ছেলে মো. মিরাজুল ইসলাম স্থানীয় বিজরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ভাড়ায় নিয়ে গত প্রায় ৪০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় (৩ পুরুষ ধরে) উক্ত দোকানঘরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানঘর ও জায়গার মালিকানা নিয়ে বিবাদীদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলে আসছিল।

​অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৯ অক্টোবর উক্ত বিরোধের জেরে বিজরুল গ্রামের মো. আনিছ রহমান (৫৫), মো. মামুন (৫০), মো. রফিকুল (৪৮) ও মো. আব্দুল আজিজ (৪৫)-এর নেতৃত্বে আনুমানিক ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র যেমন হাসুয়া, রামদা ও লাঠি নিয়ে হঠাৎ করে ওই দোকানে হামলা চালায়। তারা দোকানঘরে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট শুরু করে।

​এ সময় দোকানমালিক বাধা দিতে গেলে ৩ নম্বর অভিযুক্ত মো. রফিকুল একটি ধারালো বার্মিজ চাকু ভুক্তভোগীর ছেলের গলায় ধরে হত্যার ভয় দেখান এবং নড়াচড়া করলে গলা কেটে ফেলার হুমকি দেন। পরবর্তীতে আসামিরা ব্যবসায়ী মিরাজুল ইসলামকে আটকে রেখে জোরপূর্বক পুরো দোকানঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন এবং ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ ৬০ হাজার টাকাসহ সব মালপত্র লুট করে নিয়ে যান। চলে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে বলেন, পুনরায় ওই স্থানে দোকান চালু করলে পুরো পরিবারসহ তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।

​ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউনুছ আলী (৩০) ও মো. আব্দুস সামাদ (৬০) জানান, হামলাকারীরা অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে এসে হঠাৎ আক্রমণ ও ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা তিন পুরুষ ধরে সুনামের সঙ্গে এখানে ব্যবসা করে আসছি। তারা অন্যায়ভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে দোকানঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং নগদ টাকাসহ সব লুট করে নিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আনিছ রহমান বলেন,বাবা এই জমিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে দান করেছিলেন। আমার বাবার দানকৃত জমিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কোনো অনুমোদন ছাড়াই রাতের আঁধারে ইটের কাজ শুরু করা হয়। এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতেই আমরা কাজ করতে বাধা দিয়েছি।

​এ ব্যাপারে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, এসংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।