শতকোটি টাকার সফিপুর ফ্লাইওভারের নিচে ময়লার ভাগাড়, ক্ষুব্ধ জনতা
- আপডেট ০২:২৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / 47

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার ফ্লাইওভারের নিচে পৌরসভার ময়লা ফেলে তৈরি করা হয়েছে বিশাল ময়লার ভাগাড়। মহাসড়কের অংশ দখল করে দিনের পর দিন ময়লার স্তূপ জমে থাকায় চরম জনদুর্ভোগ ও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন হাজারো পথচারী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও তানহা হসপিটালের রোগীরা। ‘শতকোটি টাকার ফ্লাইওভারের নিচে ময়লার ভাগাড়—পৌরসভার বাজেটের টাকা কোথায় যায়?’—এমন প্রশ্ন এখন স্থান পেয়েছে স্থানীয়দের মুখে মুখে।
রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সফিপুর ফ্লাইওভারের ঠিক নিচে এবং তানহা হসপিটালের ঠিক উল্টো পাশে মহাসড়কের ওপরই পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। পচা শাকসবজি, ফলমূলের উচ্ছিষ্ট, প্লাস্টিক-পলিথিন থেকে শুরু করে হাসপাতালের বিপজ্জনক বর্জ্যও সেখানে স্তূপীকৃত হয়ে আছে। দুর্গন্ধের তীব্রতায় পথচারীদের ১-২ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই ময়লার ডাস্টবিনের পাশেই সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে খোলা অবস্থায় বিক্রি হচ্ছে ঝালমুড়ি, চটপটি ও দই-মিষ্টি। ময়লার স্তূপের পাশেই চট ও পলিথিন বিছিয়ে বসছেন ক্রেতারা। একই সাথে ঢাকা-টাঙ্গাইলগামী দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও অটোরিকশা ময়লা ঘেঁষেই চলাচল করায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের।
ক্ষোভ প্রকাশ করে পথচারী আবুল কাশেম (৫২) বলেন, “এটিকে ময়লার ডাস্টবিন ভাবলে ভুল করবেন, এটা সফিপুরের চিত্র। গাজীপুরে এত খালি জায়গা থাকতে বাজারের মধ্যে হাইওয়েতে কেন ময়লা ফেলবে? এটা কি সরকারের ব্যর্থতা, নাকি পৌরসভার?”
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। অন্যদিকে পেট চালাতে বাধ্য হয়ে দূষিত পরিবেশেই খাবার বিক্রি করছেন বলে জানান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সোহেল রানা। বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় নাক চেপে যাতায়াত করতে হয় বলে জানান স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষিকা।
এ বিষয়ে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মুজিবুর রহমান মুঠোফোনে জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। আমি ইতিমধ্যেই পৌর মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ময়লা অপসারণ করে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি। জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হবে।”
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “মহাসড়ক কোনো ময়লা ফেলার স্থান হতে পারে না। দ্রুত অপসারণের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে স্থানটি পরিষ্কার করা হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এখানে ময়লা না ফেলা হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।”
মহাসড়ক থেকে অবিলম্বে এই ময়লার ভাগাড় সরিয়ে একটি নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনে বর্জ্য ফেলার স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।















