তাওহীদ হৃদয়ের ৩৫০ রান, রেকর্ড ভাঙার হাতছানি
- আপডেট ১২:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 35

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচের শেষ দিনে তাওহীদ বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ঘোষণার আগে করেন ঠিক ৩৫০ রান। প্রথম শ্রেণি তো বটেই, সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে এটি এখন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সর্বোচ্চ রান। দুইয়ে নেমে গেছেন সাবেক ওপেনার ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। ২০২০-২১ মৌসুমে বিসিএলে তিনি করেছিলেন ৩৩৪ রান।
নাঈম শেখ ও আফিফ হোসেনের সঙ্গে দুটি ছোট জুটিতে একশ পার করান তাওহীদ। তবে ১৩৫ রানে চার উইকেট পতনের পর শঙ্কা জাগে ফলো-অনের। এরপরই জাকের আলিকে নিয়ে দারুণ এক জুটিতে তাওহীদ দেখান তার টেস্ট ক্রিকেটের টেম্পারমেন্টের চূড়ান্ত প্রদর্শনী। ফিফটি পেরিয়ে করেন সে ৷
উইকেটে বোলারদের জন্য বলতে গেলে কিছুই নেই, পেসার-স্পিনাররা গোটা দিনে করেছেন গড়পড়তা বোলিং। তবুও তাওহীদ যেভাবে ব্যাট করছেন, রান বের করেছেন চাপের মুখে, সেটা তার পরিণত ব্যাটসম্যানশিপেরই পরিচয় দিয়েছে। তাছাড়া বাউন্সি উইকেটে হুট করে খেলতে নেমেই সাবলীলভাবে হুক-পুল করে রান করাটা চাট্টিখানি কথা নয়।
জাকের আলি ৯৪ রানে ফিরলেও দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ক্লান্ত করে প্রতিটি রানের জন্য লড়ে গেছেন তাওহীদ। তৃতীয় দিনের খেলার শেষ সময়ে তাওহীদ দেখা পান কাঙ্ক্ষিত দ্বিশতকের। লেট কাট করে ব্যাট উঁচিয়ে শূন্যে লাফিয়ে উদযাপনই বলে দিচ্ছিল, অনেক পরিশ্রম আর নিবেদনের ফসল এই ইনিংস। তবে বাংলাদেশের অনেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের মতো এতেই সন্তুষ্ট না হয়ে তৃতীয় দিনেও তাওহীদ লড়েন সেই একই দৃঢ়তা নিয়ে।
তাওহীদের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, একদম শুরু থেকেই ইনিংসটা আবার নতুন করে সাজাচ্ছেন। অন্যপ্রান্তে দুই উইকেট পড়ে গেলেও তাওহীদের আশা টিকিয়ে রাখেন দশে নামা রেজাউর রহমান রাজা। একপ্রান্ত আগলে মাটি কামড়ে ব্যাট করে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
এতে ভর করে বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হওয়ার কীর্তি গড়েন তাওহীদ। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বিদেশের মাটিতে সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে এর আগে কেউই তিনশ রান করতে পারেননি। এর আগের সর্বোচ্চ ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব আল হাসানের ২১৭ রান।
আর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে রকিবুল হাসান ও তামিম ইকবালের পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন হৃদয়।














