বগুড়ার নন্দীগ্রামে বসতবাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে হামলা,মারধর এবং গরু ও স্বর্ণের চেইন লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দেওয়ায় এক নারীকে গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা চালানো হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটির সদস্য মোঃ মাসুদ রানা বাদী হয়ে গতকাল সোমবার রাতে নন্দীগ্রাম থানায় ছয়জনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের রায়পুর কুস্তা পোতাপাড়া গ্রামের অধিবাসী মাসুদ রানা ও তার স্ত্রী মোছাঃ রাহিমা খাতুনের দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। গৃহবিবাদের একপর্যায়ে রাহিমা খাতুন তার বাবার বাড়িতে চলে যান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পূর্ব শত্রুতা ও পারিবারিক কলহের জেরে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির বারান্দায় রাখা একটি গরু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিবারের সদস্যরা এতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা গালিগালাজের একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মাসুদ রানার জেঠা (বড় বাবা) ও ফুফাসহ উপস্থিত স্বজনদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলা চলাকালে মাসুদ রানার মাকে চুলে ধরে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ সময় তার গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া আনুমানিক ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি লাল রঙের বকনা গরু জোরপূর্বক নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আত্মীয়স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন মাসুদ রানা।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন,উপজেলার রায়পুর কুস্তা গ্রামের মোঃ মোজাম্মেল হকের দুই ছেলে মোঃ মুর্তজা সরদার ও মোঃ মোকারম হোসেন,গছাইল গ্রামের মোঃ আমজাদ আকন্দের ছেলে মোঃ আব্দুর রউফ,চারালদিঘী গ্রামের মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, আতাইল গ্রামের মোঃ আব্দুর রউফের স্ত্রী মোছাঃ জান্নাতি খাতুন এবং রায়পুর কুস্তা গ্রামের মোঃ মুর্তজা সরদারের ছেলে মোঃ হাদিউর রহমান।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রউফ বলেন, আমার মেয়েকে একটি গরু দিয়েছিলাম,সেটা নিয়ে এসেছি কাউকে মারধর করিনি,স্বর্ণের চেইন নিয়ে আসার প্রশ্নই ওঠে না সব মিথ্যা। আমরা ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে আমাদের উপর হামলা করে তারা।
এই বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান,লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।