ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ার ট্রাইব্যুনালে প্রথম রায়, শিশু ধর্ষণ মামলায় ফাঁসি

বগুড়া প্রতিনিধি:
  • আপডেট ০৪:৩৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 30

 

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আসামির দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। শিশু সহিংসতা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তির এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে মামলার রায় ঘোষণা দেন বগুড়া শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মারুফ হোসেন। আদালত প্রতিষ্ঠার পর ট্রাইব্যুনালে এটিই প্রথম রায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশুদের প্রতি সহিংসতার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়।

মামলার রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দন্ডপ্রাপ্ত আব্দুল খালেক (৫১) শেরপুর উপজেলার বাগড়া বস্তিপাড়ার আইজ উদ্দিনের ছেলে। রায় সন্তোষজনক জানিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছে মামলার বাদী। শিশু সহিংসতার অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাড. আলী আসগর।

বগুড়া কোর্ট ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম শহীদ জানান, ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর শেরপুর উপজেলায় শিশু সহিংসতা ঘটে। সেসময় তিনি থানার ওসি ছিলেন। ঘটনার পর ৩১ অক্টোবর ভিকটিমের মা বাদী হয়ে শেরপুর থানায় আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দেয় পুলিশ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় শুনানি, সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন শেষে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

মামলা সূত্র জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ৯ বছর বয়সী শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে দন্ডিত আব্দুল খালেক। ঘটনার পর শিশুর আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। অসুস্থবোধ করায় বাড়িতে চুপচাপ থাকত। সৎ মায়ের সংসার কাজে সহযোগিতা না করায় শিশুকে মারধর করা হয়। ভিকটিম ধর্ষণের বিষয়টি জানালে অবিশ্বাস করে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় অভিযোগ করে। এরপর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

 

 

 

ট্যাগ

Please Share This Post in Your Social Media

বগুড়ার ট্রাইব্যুনালে প্রথম রায়, শিশু ধর্ষণ মামলায় ফাঁসি

আপডেট ০৪:৩৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

 

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আসামির দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। শিশু সহিংসতা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তির এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে মামলার রায় ঘোষণা দেন বগুড়া শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মারুফ হোসেন। আদালত প্রতিষ্ঠার পর ট্রাইব্যুনালে এটিই প্রথম রায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশুদের প্রতি সহিংসতার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়।

মামলার রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দন্ডপ্রাপ্ত আব্দুল খালেক (৫১) শেরপুর উপজেলার বাগড়া বস্তিপাড়ার আইজ উদ্দিনের ছেলে। রায় সন্তোষজনক জানিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছে মামলার বাদী। শিশু সহিংসতার অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাড. আলী আসগর।

বগুড়া কোর্ট ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম শহীদ জানান, ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর শেরপুর উপজেলায় শিশু সহিংসতা ঘটে। সেসময় তিনি থানার ওসি ছিলেন। ঘটনার পর ৩১ অক্টোবর ভিকটিমের মা বাদী হয়ে শেরপুর থানায় আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দেয় পুলিশ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় শুনানি, সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন শেষে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

মামলা সূত্র জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ৯ বছর বয়সী শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে দন্ডিত আব্দুল খালেক। ঘটনার পর শিশুর আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। অসুস্থবোধ করায় বাড়িতে চুপচাপ থাকত। সৎ মায়ের সংসার কাজে সহযোগিতা না করায় শিশুকে মারধর করা হয়। ভিকটিম ধর্ষণের বিষয়টি জানালে অবিশ্বাস করে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় অভিযোগ করে। এরপর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।