ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয় মাস চলে গেল,আর কয় মাস লাগবে প্রশ্ন,মোশারফ হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট ০৮:৫৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 32

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":2,"adjust":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

‘ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট এক দিন বা সাত দিনে পারে, অথচ আমাদের সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হচ্ছে। সেই কাজ করতে আর কত দিন লাগবে?’ জাতীয় সংসদে এ প্রশ্ন তুলেছেন বগুড়া-৪ (কাহালু নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন।
শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণের দাবি জানিয়ে ৭১ বিধিতে দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের ওপর আলোচনায় এ প্রশ্ন উত্থাপন করেন তিনি।
রবিবার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ওই প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের স্বার্থে বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে আইন ও বিধি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন,দেশের উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা, জেলা-উপজেলা এবং অন্যান্য ক্রয়কারী কার্যালয়ে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০২৫ অনুযায়ী ক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় সে বিষয়ে সম্পূর্ণ সজাগ এবং জনগণের স্বার্থে আমরা এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছি। যথাসময়ে প্রয়োজনে সেটা আমরা অনুমোদন করব।
তিনি আরো জানান,সরকারি ক্রয়কার্যে মূলত সীমিত দরপত্র পদ্ধতি (এলটিএম) ও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) অনুসরণ করা হয়।
এলটিএমে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রাক্কলিত মূল্যের কাজ করা যায়। আর যেকোনো পরিমাণ মূল্যের জন্য ওটিএম প্রযোজ্য।
এরপর সম্পূরক প্রশ্নে মোশারফ হোসেন বলেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে অনেক শিক্ষিত যুবক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। বিগত সরকার তাদের এই টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ কাউকে সেখানে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি।
এ প্রক্রিয়া করতে অন্তর্বর্তী সরকার যদি একদিন বা সাত দিনের মধ্যে পারে, তাহলে বর্তমান সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও কেন এটি সহজীকরণ করা যাচ্ছে না, সেটি জানতে চাই। তিনি বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করা হলে শিক্ষিত বেকার যুবকসহ দেশের সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরাও এভাবে কাজের সুযোগ পেতে পারেন।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,‘মাননীয় মন্ত্রী,ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’
জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল, বর্তমান সরকারের সে সুযোগ নেই। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন-কানুন ও নিয়ম মেনেই কাজ করতে হয়।
তবে মোশারফ হোসেনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি যে কথাগুলো বলেছেন অত্যন্ত যুক্তিসংগত।’ তিনি জানান, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার আইন ও বিধি যুগোপযোগী করে সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কয়েক দফা বৈঠকের পর একটি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। অচিরেই সেইটা পার্লামেন্টের সামনে আসবে। আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় থাকা সিন্ডিকেটের ব্যারিকেড ভাঙার ব্যবস্থা করা হবে।
ট্যাগ

Please Share This Post in Your Social Media

ছয় মাস চলে গেল,আর কয় মাস লাগবে প্রশ্ন,মোশারফ হোসেন

আপডেট ০৮:৫৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
‘ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট এক দিন বা সাত দিনে পারে, অথচ আমাদের সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হচ্ছে। সেই কাজ করতে আর কত দিন লাগবে?’ জাতীয় সংসদে এ প্রশ্ন তুলেছেন বগুড়া-৪ (কাহালু নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন।
শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণের দাবি জানিয়ে ৭১ বিধিতে দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের ওপর আলোচনায় এ প্রশ্ন উত্থাপন করেন তিনি।
রবিবার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ওই প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের স্বার্থে বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে আইন ও বিধি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন,দেশের উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা, জেলা-উপজেলা এবং অন্যান্য ক্রয়কারী কার্যালয়ে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০২৫ অনুযায়ী ক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় সে বিষয়ে সম্পূর্ণ সজাগ এবং জনগণের স্বার্থে আমরা এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছি। যথাসময়ে প্রয়োজনে সেটা আমরা অনুমোদন করব।
তিনি আরো জানান,সরকারি ক্রয়কার্যে মূলত সীমিত দরপত্র পদ্ধতি (এলটিএম) ও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) অনুসরণ করা হয়।
এলটিএমে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রাক্কলিত মূল্যের কাজ করা যায়। আর যেকোনো পরিমাণ মূল্যের জন্য ওটিএম প্রযোজ্য।
এরপর সম্পূরক প্রশ্নে মোশারফ হোসেন বলেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে অনেক শিক্ষিত যুবক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। বিগত সরকার তাদের এই টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ কাউকে সেখানে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি।
এ প্রক্রিয়া করতে অন্তর্বর্তী সরকার যদি একদিন বা সাত দিনের মধ্যে পারে, তাহলে বর্তমান সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও কেন এটি সহজীকরণ করা যাচ্ছে না, সেটি জানতে চাই। তিনি বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করা হলে শিক্ষিত বেকার যুবকসহ দেশের সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরাও এভাবে কাজের সুযোগ পেতে পারেন।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,‘মাননীয় মন্ত্রী,ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’
জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল, বর্তমান সরকারের সে সুযোগ নেই। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন-কানুন ও নিয়ম মেনেই কাজ করতে হয়।
তবে মোশারফ হোসেনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি যে কথাগুলো বলেছেন অত্যন্ত যুক্তিসংগত।’ তিনি জানান, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার আইন ও বিধি যুগোপযোগী করে সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কয়েক দফা বৈঠকের পর একটি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। অচিরেই সেইটা পার্লামেন্টের সামনে আসবে। আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় থাকা সিন্ডিকেটের ব্যারিকেড ভাঙার ব্যবস্থা করা হবে।