বগুড়ার নন্দীগ্রামে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তদের ছিটিয়ে দেওয়া আগাছানাশক (ঘাস মারা বিষে) পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তিন কৃষকের দেড় বিঘা জমির মরিচ খেত। আর মাত্র ১০ দিন পরেই খেত থেকে কাঙ্ক্ষিত ফসল তোলার কথা ছিল। কিন্তু এক রাতের তাণ্ডবেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে তাঁদের দীর্ঘদিনের ঘাম ঝরানো শ্রম, রক্তপানি করা পুঁজি আর পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সবুজ সতেজ মরিচ খেতজুড়ে এখন শুধু পরাজয়ের বিষাদ। বিষাক্ত ওষুধের তাণ্ডবে গাছগুলো শুকিয়ে লালচে ও বিবর্ণ হয়ে মাটিতে হেলে পড়েছে। নিজের হাতে গড়া স্বপ্নের এই ধ্বংসস্তূপ দেখে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন নিঃস্ব কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট গভীর রাতে উপজেলার ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের দমদমা মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন ধুন্দার দারোগাপাড়া মৌজায় এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা হলেন ধুন্দার দারোগাপাড়া গ্রামের মৃত ইকন আলীর দুই ছেলে মো. নুর আলী ও মো.পিয়ার আলী এবং ধুন্দার খাশপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মো.জাকারিয়া।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান,তিনজনে যৌথভাবে দেড় বিঘা জমিতে কঠোর পরিশ্রমে মরিচ চাষ করেছিলেন। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার ও কীটনাশক বাবদ এ পর্যন্ত তাঁদের নগদ ও ঋণ করা প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। খেতের ফলন যেমন হয়েছিল, তাতে এ মৌসুমে অন্তত ৮ লাখ টাকার মরিচ বিক্রির আশা ছিল তাঁদের। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে শত্রুতামূলকভাবে পুরো খেতেই বিষাক্ত আগাছানাশক স্প্রে করে সব গাছ মেরে ফেলা হয়েছে।
আবেগপ্লুত কণ্ঠে ভুক্তভোগী কৃষক নুর আলী বলেন, আর মাত্র ১০টা দিন পার হলেই খেত থেকে মরিচ তুলে বাজারে বেচতাম। ঘাম ঝরানো টাকা আর মানুষের কাছ থেকে ঋণ এনে ফসল বুনেছিলাম। আমাদের সব শেষ হয়ে গেল,আমরা এখন একেবারেই নিঃস্ব! এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নন্দীগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা। তারা এ বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত,জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানান।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, কৃষকদের ফসল নষ্ট করার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।